আমাদের রাজ্য জনসংখ্যার বিচারে মনে হয় ভারতের মধ্য দ্বিতীয়।এই ধান কাটার মেশিন দিয়ে কাজ ভাবতে হবে ভাবতে শিখতে হবে যে রাজ্যে অধিকাংশ মানুষ দিন মুজুরি পেশা। দিন দিনমজুর বাড়ছে। একশ দিনের কাজ এখন প্রায় বন্ধের মুখে। কাজ চাই কাজ নেই, সরকারি চাকরির জন্য অনশন করতে হচ্ছে। বেকার ছেলে তারা কোনো রকমে ধার দেনা করে একটা অটো নয়ত টোট কিনে চালাচ্ছে, কখনও যাত্রী হয় কখনও হয় না। বর্তমানে দেশের সঙ্গে এই রাজ্যে বেকার মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। সেখানে দাঁড়িয়ে যন্ত্র দিয়ে কাজ বিলাসিতা নয় কি? বলবেন আপনি যন্ত্রের বিরোধীতা করছেন, কাজের লোক যখন পাওয়া যায় না, তখন কি হবে? আমি যন্ত্রের বিরোধীতা করছি না, কেবল ভাবতে বলছি, যে রাজ্যে এতো দিন মজুর, এবং দিন দিন বাড়ছে, সে খানে এ রকম ধান কাটার মেশিন দিয়ে কাজ করা কিছু মানুষ কে কাজ থেকে বঞ্চিত করা নয় কি? এ একটা দিক আরেকটা দিক ভাবতে অনুরোধ করছি, এভাবে ধান কাটার ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খড় পাওয়া যায় না, যে গুলো গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যারা গরু পোষেন তাদের গো খাদ্য যোগার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক গরীব মানুষ খড় দিয়ে ঘরের চাল বা ঘর ছাইতে কাজে লাগান, তারাও দামের জন্য ঘর ছাইতে পারবে না। এ যেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মহেশ গল্প হয়ে যাচ্ছে। গরুর খাবার যোগাতে না পেরে চাল থেকে খড় টেনে দিত, এখন সেই চালেও খড় নেই, তাই আমাদের মতো এই জন বহুল রাজ্যে মেশিন বা যন্ত্রে ধান কাটা মনে হয় বিলাসিতা

No comments:
Post a Comment