
বেকার যুবক যুবতী, কাজের দাবিতে নবান্ন অভিযানে গিয়ে ছিল। বিনিময়ে কি পেল, পুলিশের মার মারতে মারতে এক যুবক কে মেরে ফেলা হলো, আরেক জনের খোঁজ নেই। এই জঙ্গলের রাজত্ব আর কত দিন চলবে কে জানে? অমানবিক আচরণ করত ইংরেজ আমলে পুলিশ, স্বাধীন দেশে শাসক তার শোষণ চালিয়ে যেতে, গন আন্দোলন কে দমন করে, এটা স্বৈরাচারী শাসক এরকমই হয়ে থাকে। যাহোক এখন তো দিল্লী সহ এই রাজ্যেও দ্বিতীয় ইংরেজ শাসন চলছে। ব্রিটিশ পুলিশ যেমন সরকারের হয়ে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করত। মিথ্যে কেস দিত, ফসলের থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে উপরি কর আদায় করতে সাহায্য করত, এখন তথা এই শাসকের আমলে কাটমানি তোলা, গ্রীন কড়িডোর করে এ্যাম্বুলেন্সে করে তোলাবাজি বা চুরির টাকা এনে দেওয়া অবশ্যই নিজেদের ভাগ রেখে। ইংরেজ আমলের মত এখন বিভিন্ন রাস্তা ঘাট তৈরি করা হচ্ছে, আরো নানা শ্রী প্রকল্প প্রতি টি থেকে উপরি ইনকাম, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর রা কি করে যার টাকা পাওয়ার কথা তার এ্যাকাউন্ট না দিয়ে নেতা বা কর্মীদের এ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিল। আর বর্তমানে পঞ্চায়েত কর্মী নিয়োগ যারা হয়েছে প্রত্যেকে সরকারি ভাবে পরীক্ষা দিয়ে আসে নি প্রায় সকলেই পরীক্ষা না দিয়ে ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়েছে, সে কারণেই মুর্শিদাবাদের লোক হুগলীর পঞ্চায়েত চাকরি করে আবার হুগলী জেলার লোক জলপাইগুড়ির পঞ্চায়েতে চাকরি করে। ভাবুন পঞ্চায়েতে সামান্য বেতনের কেরানির চাকরি বেতন কম ডি এ নেই, সরকার গৃহভাড়া ভাতা কম দিচ্ছে, তাতে সে আরেকটা জেলায় আট থেকে দশ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া তথা ঘর ভাড়া নিয়ে আছে। পুলিশ ওদের তো কথাই নেই অর্ধেকের বেশি আছে জালি পূলিশ এরা ইংরেজ আমলের মত বর্তমান শাসক দলের হয়ে পাবলিক এর উপর অত্যাচার করতে ওস্তাদ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ পোশাক পরে বেড়িয়ে পরে বা এলাকার শাসক দলের নেতা কর্মী তথা মস্তান দের ডেকে নেয় নিয়ে মিছিল মিটিং প্রতিবাদির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।কি ভাবছেন এলাকার শাসক দলের নেতা কর্মী দের ফোন নাম্বার প্রতিটি পুলিশ কর্মীর কাছে আছে। অবশ্য এসব হচ্ছে আই প্যাক নামক সংস্থার জন্য, এই আই প্যাক আসলে আয় এস এস এর পাঠানো দল যাদের কাজ বাঙালি জাতি কে ধ্বংস করা। আর সর্বত্র দমন পীড়ন চালানো, আর সর্বত্র ধর্মের বিষ ছড়িয়ে বাঙালির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে রাখা। সে জন্য নকল পুলিশ, নকল অফিসার, এবং কম বেতনের কর্মী এসব ঐ আই প্যাকের নির্দেশে তোলাবাজি, এবং সেটা পুলিশ ও সরকারি অফিসার দিয়ে করানো তাদের ভাগ দেওয়া। আর শিক্ষা ব্যবস্থা কে ধ্বংস করে দেওয়া এসব আই প্যাক তথা আর এস এস এর কাজ। যাহোক শিক্ষা এবং বর্তমান শিক্ষক দের নিয়ে অনেক লেখা এই ব্লগে আছে নতুন করে আর লিখলাম না। এখন শাসক পুলিশ, আর সরকারি অফিসার, বিচার ব্যবস্থা, বড় বড় শিল্প পতি প্রত্যেকে মিলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের উপর নানা ভাবে অত্যাচার নামিয়ে এনেছে কোনো কোনো সময় যা ব্রিটিশ শাসন কেও হার মানিয়ে দিচ্ছে। যেমন কম মজুরি তে বেগার খাটানো, না হলে ভাবুন তো একজন মিড ডে মিল কর্মী অর্থাৎ রাঁধুনী বর্তমান বাজারে বেতন পায় দু হাজার টাকা তাও দশ মাসের, ধরে নেওয়া গেল সে মাসে কুড়ি দিন কাজ করে তাহলে তার মজুরি হল দৈনিক এক'শ টাকা। আর যদি বিদ্যালয়ে দল বা গোষ্ঠী তে রান্না করে তাহলে ঐ দু হাজার টাকা দলের মধ্যে ভাগ করে নিতে হয়।
তার উপর আছে বর্তমান ঘুষ দিয়ে সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পাওয়া শিক্ষক কুলের বিভিন্ন রকম কটুক্তি আর অপমান নিত্যদিনের পাওয়না। কারণ এদের বেশির ভাগ টা বাম আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত সে কারণেই এদের উপর এত রাগ। নিজেরা ঠিক সময়ে আসে না, পঠনপাঠন বন্ধ করে অফিস ঘরে বসে গল্প করতে ভালো বাসে আর মনে হয় বাড়িতে রান্না বান্না হয় না, বারোটা বাজলো মিড ডে মিলের ভাত ডাল তরকারি নিয়ে খেতে বসে গেল। দেখে মনে হয় বাড়িতে রান্না করতে বারণ করেছে স্কুলের মিড ডে মিল খাওয়ার জন্য। যাহোক দিদির এই সব ভাইপো ভাইঝি দের কথা না বলাই ভালো, এখন দিল্লির শাসক সেও কম যায় না, কয়েক জন শিল্পপতির হয়ে সারাদেশের জনগনের উপর নানা কর চাপিয়ে চলেছে, সে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র (খাদ্য দ্রব্য ) থেকে শুরু করে জীবন দায়ি ওষুধ, সর্বত্র জিজিয়া কর ব্যবস্থা চালু করে দিয়েছে। আর আছে ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা কথার কথায় বিভিন্ন কারণে টাকা কেটে নেওয়া, কারণ ঐ যে বড় বড় শিল্প পতিদের ঋণ দিল্লির সরকার মুকুব করে দিয়েছে, পরিমাণ টা কম না কয়েক লক্ষ হাজার কোটি টাকা। আবার বেশ কিছু শিল্প পতি ঋণ নিয়ে শোধ না করে বিদেশে পালিয়ে গেছে বলা ভালো তাদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে দিল্লির সরকার। আর এদিকে পড়নের কাপড় থেকে খাদ্য দ্রব্য বেঁচে থাকার জন্য নুন্যতম চিকিৎসা করাতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। আর নেতা মন্ত্রী বেশ কিছু সরকারি কর্মচারী এই রাজ্যে লুঠ চালাচ্ছে যত প্রকল্প তত কাটমানি! এই একটা শুরু হয়েছে আমার পাড়া আমার সমাধানে প্রতি পাড়ায় বা বুথে দশ লক্ষ টাকা এখন থেকেই হিসেবে শুরু হয়েছে কীভাবে ওটা লুটপাট করা যাবে না হলে সামনের ভোটে মদ মাংস খাওয়ানো যাবে না বা ভোটার দের বাড়ি তে কিছু পাঠানো যাবে না। আমি এখানে একটা ঘটনার কথা বলি, 2022 বা 2023 সালের একটি ব্লকের ঘটনা, বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিচেন সেড ও ইউরিনাল টয়লেট তৈরির জন্য টাকা দেওয়া হবে বলা হল। যাদের দরকার সে সব স্কুল আবেদন করল, এর মধ্যে বেশ কিছু স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা ভার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দের ডেকে বলা হল খরচের হিসেব টা আগে থেকে জমা দিতে হবে তার পর টাকা দেওয়া হবে, যে সব স্কুল কে ডেকে দিতে বলল তারা প্রায় প্রত্যেকে টাকা পেল না খরচ করল না ইউ সি জমা করে দিল। সেই টাকা এখনও পর্যন্ত ঐ সব স্কুল কে দেওয়া হয় নি। এভাবেই সরকারি ভাবে একজন বি ডিও অফিস থেকে কয়েক লক্ষ টাকা লুঠ হয়ে গেল। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কে বলছি আপনারা এই লুটপাট বন্ধ করতে চাইলে রুখে দাঁড়ান আপনাকে তথা আপনার বাড়ির লোক কে পাঁচ শ হাজার টাকা দিয়ে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আজ সারা দেশের থেকে এই রাজ্যে বিদ্যুতের দাম বেশি, ওষুধের দাম বেশি হসপিটালে ডাক্তার নেই, কারণ এখন ডাক্তারি পড়তে হয় না টাকা দিলে ডাক্তারি পাশ করা যায়। আর ওষুধ প্রায় সব টাই ভেজাল অর্থাৎ জাল কারণ ইলেট্রালার বণ্ডে কোটি কোটি টাকা নিয়েছে দিল্লী এবং পশ্চিমবঙ্গের শাসক আপনাকে শোষণ করবে বলে, আপনি একবেলা খেয়ে কোনো বেঁচে আছেন আপনাকে বলা হচ্ছে চাল বিনা পয়সায় দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আপনি সেই চাল দিয়ে ভাত রান্না করবেন, জ্বালানির দাম আকাশ ছোঁয়া, গ্যাস বলুন, স্টোভ জ্বেলে রান্না করবেন কেরোসিন তেলের দাম আকাশ ছোঁয়া। শুধু ভাত খাবেন, একটু ডাল কিম্বা তেল নুন (লবন) বা সামান্য সবজি কিনতে যান আপনার যা মজুরি ঐ দিয়ে কিছু হবে না। কারণ দু শ তিন শ বড় জোর পাঁচশ টাকা মজুরি ওতে চলবে না। আবার সেই ব্রিটিশ শাসন ফিরে আসছে, বাবু গো একটু ফ্যান হবে অনেক দিন কিছু খাই নি। একটু লক্ষ করে দেখবেন স্টেশনে স্টেশনে ভিক্ষারির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। খুব কম বয়সি বাচ্চা দের নিয়ে অনেকেই ট্রেনে ভিক্ষা করছে। বলবেন আগে ছিল না, আমি বলি ছিল কম ছিল এত বেশি ছিল না। এই বাংলায় আবার 1980 সালের আগের অবস্থা ফিরে আসছে, অশিক্ষা দারিদ্র, না খেতে পাওয়া, ভুট্টা গুঁড়ো, মাইলো, ঘেসো কড়াই শেদ্ধ যবের আটা সে সব দিন যদি ফেরত না আনতে চান তাহলে রুখে দাঁড়ান না হলে ভয়ঙ্কর পরিনতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা ভুয়ো ডাক্তার, জাল ওষুধ, খাবার জিনিসে ভেজাল, তার উপর আকাশ ছোঁয়া দাম এসব দেখে আপনার মনে হচ্ছে না, এই দুই সরকার মিলে শোষণ চালাচ্ছে। একে দ্বিতীয় ইংরেজ শাসন বলবেন না, ইংরেজ লুটপাট করত জমিদার জোতদার দের দিয়ে আর এরা অত্যাচার করছে শিল্পপতি ব্যবসায়ী দের দিয়ে, ইংরেজের শাসন না মানতে পারলে তার উপর পুলিশ এবং ইংরেজ সাহেবের অত্যাচার নেমে আসত, ইংরেজ যেমন বাঙালির মধ্যে ডিভাইড এণ্ড রুল চালু রেখেছিল, অর্থাৎ ধর্মের নামে বিভাজন, জাতের নামে বিভাজন, এখন দেখুন সেটাই হচ্ছে, ধর্মের নামে ভাষার নামে ভাগ করছে। আর ইংরেজ তার ব্যবসা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের পানীয় প্রথম বিনা মূল্যে দিত যেমন চা, মদ খাওয়াতো তার পর সে গুলো নিজের দেশ থেকে এনে বিক্রি করত। এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজে মদ বিক্রি করে কারণ ওটা থেকেই সরকারের রাজস্ব বেশি আসে। আপনি ভুলে আছেন আপনার স্ত্রী লক্ষী ভান্ডার পাচ্ছে, মেয়ে কন্যাশ্রী পাচ্ছে, আর আপনি মেয়ে কে পড়তে পাঠাচ্ছেন সেই কন্যাশ্রী পাওয়া মেয়ে কে ধর্ষণ করছে, এর সাথে ইংরেজ দের কথা মনে করুন যার মা বোন বা মেয়ে কে যে ইংরেজ সাহেবের মনে ধরত তাকে পুলিশ বা লেঠেল পাঠিয়ে তুলে নিয়ে যেত। বলছি রুখে দাঁড়ান আগামী দিনে এই অপশাসন কে সরিয়ে সঠিক লোক কে ক্ষমতায় আনুন। ঐ দিল্লীর দাদার দল কে নয় আর এই দল কেও না, নির্দিষ্ট করে বলছি বামেদের ক্ষমতায় আনুন। না হলে এই বেকার সমস্যা, যা সারা দেশে স্বাধীনতার ৪৫ বছরে সব থেকে বেশি।